
আলী আহসান মুজাহিদকে হত্যার বিচার চাইলেন ছেলে মাবরুর
সোহরাওয়ার্দীতে জড়ো হলেন পুলিশের গুলিতে হাত-পা হারানো ব্যক্তিরা
- আপলোড সময় : ১১-১২-২০২৪ ১২:৩০:০২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-১২-২০২৪ ১২:৩০:০২ অপরাহ্ন


কারো পা নেই, কারো হাত নেই, কারো পায়ে ব্যান্ডেজ; কেউ ক্র্যাচে আবার কেউ এসেছেন প্রিয়জনের কাঁধে ভর করে। এদের মধ্যে অনেকে ছিলেন দীর্ঘদিন গুমের শিকার। শুধু তারাই নন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ভিন্নমতের কারণে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন শক শত মানুষ। তাদের মধ্যে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শতাধিক ব্যক্তি জড়ো হয়েছেন। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ হত্যার বিচার চাইলেন ছেলে মাবরুর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা সংগঠন মায়ের ডাকের আয়োজনে গণজমায়েত হয়ে বিচার চান। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এর এই গণ জমায়েতের আয়োজন করে।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদ হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে বিচার দাবি করলেন ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর। জুলাই গণহত্যা, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম, খুন, ক্রসফায়ার ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরে গণহত্যা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী জুলুমের ভুক্তভোগীদের গণ জমায়েতে তিনি এ দাবি জানান। এদিন জুলাই-আগস্টে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান গণ জমায়েতে আসা আগত অতিথিরা ও সাধারণ মানুষ।
গণ জমায়েতে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র শামন্তা শারমিন বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসে হত্যার দায়ে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাকে ফিরিয়ে এনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
জুলাইয়ে আন্দোলনের সময়ে পুলিশের গুলিতে আহত আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি সাধারণ একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে হঠাৎ করেই পুলিশ গুলি করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পায়ে বুলেট লাগে। আমার কোনো অপরাধ ছিল না। তারপরও কেন আমাকে গুলি করা হলো? এখনও এই পা নিয়ে আমি কষ্ট করছি। কোনো অপরাধ না করেও সারা জীবন আমাকে কষ্ট করতে হবে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
আব্দুস সোবহান নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে খুব কাছ থেকে আমাকে গুলি করা হয়েছে। অথচ আমি কোনো অপরাধই করিনি। শুধু তাই নয়, এরপরও দীর্ঘদিন আমাকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়।
মায়ের ডাক সংগঠনের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে জুলুমের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এখানে জড়ো হয়েছেন। এখান থেকে আমরা পিলখানা হত্যাকাণ্ড, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম, জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বরে গণহত্যা, ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দীর্ঘ ১৬ বছর যাবত নির্বিচারে নির্যাতন চালানো হয়েছে। অসংখ্য মানুষ এখনও পরিবারের কাছে ফেরেননি। এমনকি তারা কোথায় আছেন, কেমন আছেন সেটিও জানা যায়নি। আমরা গুম হওয়া মানুষদের অবস্থান জানতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে যে জুলুম নির্যাতন ভিন্ন মতের মানুষের ওপর চালানো হয়েছে তার বিচার করতে হবে।
গণজমায়েতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, জামায়াত ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ